ঢাকাবৃহস্পতিবার , ১৩ জুলাই ২০২৩
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আরো
  6. ইসলামিক
  7. কবিতা
  8. কৃষি সংবাদ
  9. ক্যাম্পাস
  10. খাদ্য ও পুষ্টি
  11. খুলনা
  12. খেলাধুলা
  13. চট্টগ্রাম
  14. ছড়া
  15. জাতীয়
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বরগুনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কারসাজিতে অর্থ লোপাট

কালের কথা
জুলাই ১৩, ২০২৩ ১২:৩৮ অপরাহ্ণ
Link Copied!

 

আনিসুর রহমান টুলু, বরগুনা:
বরগুনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. দীন ইসলাম খান, ইনস্ট্রাক্টর (টেক) মো. ইয়াছিন আরাফাত ও ডাটা প্রসেসর সিরাজুল ইসলামের যোগসাযোশে কারসাঁজি করে প্রতিষ্ঠানের অনুকুলে বরাদ্ধকৃত বিভিন্ন খাত থেকে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। শুধু বরাদ্ধকৃত অর্থই নয় প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন টেন্ডারে ঠিকাদারের সাথে আতাত করে নিম্ন মানের পন্য ও টেন্ডার স্পেসিফিকেশন অনুযায়ী মালামাল না রেখে অর্থ আত্মসাতেরও অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ গড়ে তুলেছেন তার নিজস্ব সিন্ডিকেট। তাই এসব বিষয়ে মুখ খুলতে ভয় পাচ্ছেন কলেজের অন্য শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

বরগুনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট সুত্রে জানা গেছে, ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে তিনটি স্মারকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে বরগুনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এর অনুকূলে বরাদ্ধ দেওয়া হয় ৩ কোটি ৯ লাখ ৬৮ হাজার ৬শ টাকা। এর মধ্যে ২০২২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর একটি বরাদ্ধে কম্পিউটার সামগ্রী ক্রয় ১ লাখ, আবাসিক ভবন মেরামত ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, অন্যান্য ভবন ও স্থাপনা মেরামত ২ লাখ টাকা, অন্যান্য যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি মেরামত ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়। ২০২২ সালের ২০ জুলাই আর একটি বরাদ্ধে নগদ মজুরি ও বেতন বাবদ ১ কোটি ৩৬ লাখ ২৮ হাজার ৬শত টাকা, প্রশাসনিক ব্যায় ১৫ লাখ ১৫ হাজার টাকা, ফি, চার্জ ও কমিশন ৮০ হাজার টাকা, পেট্রোল, অয়েল ও লুব্রিকেন্ট ২ লাখ টাকা, অভ্যন্তরীণ ভ্রমন ও বদলি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মুদ্রণ ও মনিহারি ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা, সাধারণ সরবরাহ ও কাঁচামাল সামগ্রী ১১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা, পেশাগত সেবা, সম্মানী ও বিশেষ ব্যায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা, মেরামত ও সংরক্ষণ ব্যায় ৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা, আবর্তক শ্রেণীবদ্ধ স্থানান্তর ব্যায় ৪০ হাজার টাকা ও যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদি ব্যায় বাবদ ৯ লাখ ৬১ হাজার টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়। ২০২৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি অন্য আরো একটি বরাদ্ধে প্রশিক্ষণ বাবদ ৬৮ লাখ ১১ হাজার, কম্পিউটার সামগ্রী ক্রয় ১ লাখ ৫০ হাজার, প্রকৌশল ও অন্যান্য সরঞ্জামাদি বাবদ ৫০ লাখ টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, বরগুনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. দীন ইসলাম খান, ইনস্ট্রাক্টর(টেক) মো. ইয়াছিন আরাফাত ও ডাটা প্রসেসর সিরাজুল ইসলামের যোগসাযোশে কারসাঁজি করে প্রতিষ্ঠানের অনুকুলে বরাদ্ধকৃত বিভিন্ন খাত থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে লাখ লাখ টাকা। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সহযোগী ডাটা প্রসেসর সিরাজুল ইসলাম প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর থেকে এখানে কর্মরত রয়েছেন। তিনি প্রতিষ্ঠানের ডাটা প্রসেসর হলেও দায়িত্ব পালন করছেন হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা, প্রধান সহকারী ও ক্যাশ সরকারের। অভিযোগ রয়েছে যে অধ্যক্ষই এই প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব নিয়ে আসুক না কেন তাকে ম্যানেজ করে বহাল তবিয়াতে নিজের অবস্থান টিকিয়ে রেখেছেন তিনি। অধ্যক্ষরাও তার কাছ থেকে অবৈধ স্বার্থ হাসিল করার উদ্দেশ্যে তাকে একই পদে বহাল রেখে গেছেন। এজি অফিস থেকে শুরু করে ভূয়া বিল ভাউচার তৈরি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। প্রতিষ্ঠানে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা না থাকলেও রয়েছেন একজন ক্যাশিয়ার তবে তাকে দেওয়া হয়নি কোন দায়িত্ব। অধ্যক্ষের আরেক সহযোগী মো. ইয়াছিন আরাফাত ইনস্ট্রাক্টর(টেক) ইলেকট্রনিক্সরে বিভাগীয় প্রধান। একই সাথে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা ও ই-জিপি কর্মকর্তা হিসেবে। ইয়াছিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে টেন্ডার সিডিউলের নির্ধারিত দর তার পছন্দের ঠিকাদারদের অর্থের বিনিময়ে দিয়ে কাজ প্রাপ্তিতে সহযোগীতা করেন। এই তিন জনের যোগসাযোশে প্রতিষ্ঠানে চলছে অর্থ লোপাটের মহা উৎসব।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দীন ইসলাম খান, ইনস্ট্রাক্টর ইয়াছিন আরাফাত ও ডাটা প্রসেসর সিরাজুল ইসলামের যোগসাযোশে আসবাপত্র মেরামত বাবদ ৪৩ হাজার ৯শ ৮৮ টাকা, বৈদ্যুতিক স্থাপনা বাবদ ৬৪ হাজার ২শ ৮০ টাকা, কাচামাল ও খুচরা যন্ত্রাংশ বাবদ ৮৭ হাজার ৫২ টাকা, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা সামগ্রী ১৯ হাজার ৫শ টাকা, অফিস সরঞ্জাম ক্রয় বাবদ ৩৯ হাজার ১শ ৫০ টাকা, আপ্যায়ন ১০ হাজার ৫শ টাকা, অন্যান্য যন্ত্রপাতি মেরামত বাবদ ১ লাখ ২৮ হাজার ১শ ৫০ টাকা, অধিকাল ভাতা বাবদ ৭৮ হাজার ৩শ ৩৪ টাকা, ফিটিং ফিক্সার বাবদ ৫৬ হাজার ৫শ ৯৮ টাকা, অনিয়মিত শ্রমিক মজুরি বাবদ ৭৭ হাজার ৫শ টাকা, ক্রিড়া সামগ্রী ক্রয় বাবদ ১ লাখ ৯ হাজার ৬শ টাকাসহ মোট ৭ লাখ ১৪ হাজার ৬শ ৫২ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

২০২২-২০২৩ অর্থ বছরের ১২ জানুয়ারি তারিখ ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা মূল্যের ৬টি লটের একটি টেন্ডার আহব্বান করে বরগুনা পলেটেনিক ইনস্টিটিউট। টেন্ডারের মধ্যে রয়েছে, কম্পিটার বিভাগের জন্য ৩১ টি কম্পিউটার ক্রয়, সিভিল টেকনোলজি বিভাগের জন্য ইঞ্জিনিয়ারিং যন্ত্রপাতি ক্রয়, রেফরিজারেশন এন্ড এয়ারকন্ডিশ টেকনোলজি বিভাগের জন্য যন্ত্রপাতি ক্রয়, অফিস ইকুইপমেন্ট ক্রয়, কম্পিউটার যন্ত্রাংশ ক্রয়, স্পেয়ার পার্টস ক্রয় করার কথা রয়েছে। অনুসন্ধানে নেমে তথ্য আসে এই সকল টেন্ডারে ঠিকাদারদের সাথে যোগসাযোশে আত্মসাৎ করা হয়েছে লাখ লাখ টাকা।

এবিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এর কাছে প্রতিষ্ঠানে বরাদ্ধকৃত অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আমার সকল বিভাগীয় প্রধানদের নিয়ে মিটিং করে সমস্ত অর্থ বিভিন্ন উন্নয়ন কাজে ব্যায় করি। অথচ কিছু কুচক্রি মহল আমরা বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট তথ্য ছড়াচ্ছে। কম্পিউটার, সিভিল টেকনোলজি ও আরএসি টেকনোলজি বিভাগের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগসাযোশে নিম্মমানের পন্য নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সমূহের সাথে আমার কোন আর্থিক লেনদেন হয়নি যার ফলে আমি নিম্ন মানের পন্য রাখবো। তবে তারা আমাদের সাথে যে প্রতারণা করেছে এবিষয়টি নিয়ে আমরা উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানাবো। তাদের সিকিউরিটি মানি আমাদের কাছে গচ্ছিত আছে আমরা আরো এক্সপার্টিস ব্যবহার করে ঘটনার সত্যতা পেলে তাদের অর্থ আটকে দিবো। প্রয়োজনে তারা যেন আর কোথাও এ ধরনের প্রতারণা না করতে পারে তার জন্য তাদের লাইসেন্স ব্লাকলিস্ট করার জন্য সুপারিশ করা হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
%d bloggers like this: